থুতু দিয়ে সাঁটানো সম্প্রীতির পোস্টার ও মুসলমান

মামুন ফারুক

(বিশিষ্ট সাংবাদিক, আকাশবাণী ও দূরদর্শন)

পত্তি আছে। আপত্তি আছে মুখুজ্জেদের বাড়ির মেজো ছেলের লায়লার দিকে ওরকম সম্মোহীত দৃষ্টিতে তাকানো নিয়ে নয়, আপত্তিটা তাকানো আর অনূভুতি গুলি উদযাপন করার পরেও অদ্ভুত এক বেড়া, এক চিরাচরিত বেষ্টনী ওদের সেই সদ্যকিশোর বেলার দৃষ্টিকে 'শুভদৃষ্টি' দিতে বাধা দিয়েছে তাই। ওদের ফুটে ওঠা হয়নি বিষে। আর এই বেড়া টা না উঠলে, থুথুর আঠা দিয়ে সম্প্রীতির বিজ্ঞাপন সাঁটানোর কায়দা, একালের মুসলমান স্রেফ 'রিজেক্ট' করছে 'রিজেক্ট।

    সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনা ও এক বহুল প্রচলিত বাংলা দৈনিকে বিজয়া পরবর্তী এক লেখা নিয়ে শুরু, তার লেখিকা ভদ্রমহিলাকে আমি জানিনা, চিনিওনা। উনার প্রতি আমার কোনো বিদ্বেষ নেই।লেখাটায় দৃশ্য নির্মান ভালো। উনার নষ্টালজিয়া সংক্রামকও বটে, কিন্তু এই মাঝে মাঝেই লাগাতার নানান কায়দায় বিজ্ঞাপনের সম্প্রীতি ছড়ানোর অদ্ভুত প্রচারণা আমাদের আরও বিভ্রান্ত করছে। আপনারা কজন আমার সাথে একমত হবেন জানিনা, সংবাদের 'বড়বাড়ি'র বাড়াবাড়ি রকমের এক অভ্যাস ছিল মুসলিম মেধার হাত দিয়ে সেই কমিউনিটির বেশ কিছু ছ্যাঁদা অথবা বিতর্কিত কোনো প্রথা, নিয়ম কানুন নিয়ে লেখা পেলেই তা 'বাজারজাত' করা। আগুন বিদ্রোহ না হলেও বিতর্ক চাগাড় দিলেই মজা। স্বাভাবিক শর্তে যে যত বিতর্কিত তার বিতর্ক ও উপাদান নেড়ে চেড়ে দেখার আগ্রহ থাকে। বিকিকিনি ভালো হয়। ঠিক যেরকম 'কাশ্মীর ফাইল' আর তার রাষ্ট্রীয় মদতে উগ্র ঘৃণা বেচে বিবেক অগ্নিহোত্রী ১৮ কোটির ফ্ল্যাট কেনে মুম্বাইয়ে। আর প্রপাগান্ডা দিবারাত্র 'চাষা' দের মাথা খায়। উভয়ের মনে, চোখের কোনো আড়চোখে 'শত্রু' 'শত্রু' ছায়া ঘণায়। ভবিষ্যতে একটা 'গুজরাট ফাইল'বেরোলে দেখবেন তারও বিরাট বিক্রি।ঘটনাচক্রে কোনো জাভেদ আনসারি তার মুনাফায় ৩০ কোটির ফ্ল্যাট কিনলে অবাক হয়ে আ্যন্টেনায় দাঁড়কাক দেখার কিছু নেই।      

    আদতে চাষার কোনো আলাদা জাত হয়না। স্বভাব ও শ্রেণীতে তারা তাইই। এদের উত্তীর্ণ করার আলাদা পথ আছে, মুস্কিল হল রাষ্ট্রের কোষাগারের অর্থে তা 'তিথি নক্ষত্র' মেনে অবরুদ্ধ করা হচ্ছে। পাঠ্যসূচি বদল, লৌহমূর্তি উত্থান, মনীষী হত্যার নায়ককে অবতাররূপ, স্বাধীনতা আন্দোলনে সাবোতাজ করা 'মীরজাফর' কে বুলবুলির পীঠে চড়িয়ে কালাপানীর আখ্যান, প্রত্নক্ষেত্র ধ্বংস করে জাতীয়তাবাদের আড়ালে সাম্প্রদায়িকতার পুষ্টি জোগাতে ধর্মীয় ইমারত খাড়া করা ইত্যাদি তো সামান্য। আরও মিথ্যে, আরও রূঢ় কদর্য অসত্য মশলা মাখিয়ে খাওয়ানো হবে। আমরা-ওরা ক্রমেই একে অপরের থেকে দূরে যাব। বিচ্ছিন্ন হব। চিড় ধরা সম্প্রীতির ফাঁক গলে আবার রাষ্ট্রের পয়সায় নয়া নাজি বাহিনীর প্ল্যান্টেড ব্লু প্রিন্টে নরমেধ যজ্ঞ হবে পাল্লা দিয়ে জবাই হবে।

    অঙ্ক সহজ। শকুনের বাচ্চার মানুষের মাংস খাবার সাধ জাগলে, মন্দিরে গরুর মাথা আর মসজিদের দরজায় শুয়োরের দেহ ফেলে দিয়ে আসলেই তো হয়। খেলা শুরু। পড়শি রাষ্ট্রে দূর্গা প্রতিমা ভাঙার, মালাউন বলে অত্যাচারিত হবার হাহাকার ছড়িয়ে সহানুভূতি আদায় আর বিদ্বেষ ছড়ানোর অপ্রয়োজনীয় অতিসক্রিয়তায় চাপা পড়ে যাবে এবছর সে দেশে ৩২ হাজার ১৬৮ টি দূর্গাপূজো হবার মত অনন্য নজির। না, এবছর সে দেশে মূর্তি ভাঙেনি। তাতে যদিও বাহাদুরির কিছু নেই। রাষ্ট্রের দায়িত্ব এইসব বিষফোড়া না উঠতে দেওয়া। সংক্রমণ এতটাই সংক্রামিত যে, অষ্টমীর রাতে আপাত উদার গোঁড়ামিহীন বলে পরিচিত এক সংবাদকর্মী অতীতের সেই ভাঙা মূর্তি নিয়ে পুজোর আয়োজনের আবেগের পুরোনো ভিডিও আবার ছড়িয়ে লিখে দিলেন "ভুলিনি, ভুলবনা"। অদ্ভূত। আরে ভাই কি ভুলবিনা? ওই বাংলাদেশেই এবছর পুজোর সংখ্যা ৩২ হাজারের বেশি।পুজো পরিক্রমায় মুর্শিদাবাদে আসতে চাওয়া এই বাংলার অন্য জেলার এক সংবাদকর্মী মুর্শিদাবাদের অপর এক সংবাদকর্মীকে বলছেন, তিনি নাকি শুনেছেন সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের মুর্শিদাবাদের প্রতিনিধি 'মুসলমান' তাই তিনি 'হিন্দুদের' পুজো-পার্বনের খবর করেন না। অথচ অকারন আরোপ লাগিয়ে দেওয়া সেই 'মুসলমান' সাংবাদিকের বাড়িতে গোটা তিনেক হিন্দু মহিলা তার নিকটাত্মীয়ের 'স্ত্রী'।

    ধর্মান্তরিত হতে হয়নি তাদের। বরং দোতলা বাড়ির উপর তলায় সম্পর্কে 'দিদা'র গোপাল কে ভোগ দেওয়া আর একই ছাদের নীচের তলার মেঝেতে 'দাদীমা'র পশ্চিম মুখো নতজানু সমর্পণের 'ফজরের' নামায আদায় সম্প্রীতির বীজ বুনেছে। এও সম্প্রীতির উত্তরাধিকার।সমস্যাটা খুব গভীরে, তাই সাধারণ অর্ধশিক্ষিত কিম্বা নিরক্ষর জনগোষ্ঠী ডিঙিয়ে এই বিষ ঢুকে গেছে মেধা চর্চা বা শিক্ষিত মন-মননেও, তাই বাছাই করে সংবাদমাধ্যম্যের সাথে জড়িয়ে দুজনের উদাহরণ দিলাম। অভাব নেই উদাহারণের, ট্রেণের সদালাপী পেশায় শিক্ষক সহযাত্রী নামার আগে আগ্রহে উলটো দিকের মানুষের নাম জানার পর বলে ফেলেন " ও আপনি মুসলিম, বাঙালী না? আপনার কথা ও ভাষা শুনে কিন্তু বোঝা যায়নি জানেন" জানিনা এর উত্তর কি হওয়া উচিৎ। তবে বিষয়টা বুঝি।

    বিষয় হল আমাদের শিল্প, সাহিত্য, নাটক থিয়েটার অন্যান নানান মাধ্যমে 'মুসলমান' এর কিছু কাস্টমাইজড প্রতীক আছে। নির্মান করা হয়েছে তা। সজ্ঞানে বলবনা। হয়ত খাপ খাওয়াতে। দাড়ি টুপি, মোটা তাগা তাবিজ মাদুলি, বোরখা, লুঙ্গী ইত্যাদি সহযোগে গ্রামের আ্যকসেন্টে আঞ্চলিক বাংলা সংলাপ আমরা সিনেমা সিরিয়ালে দেখেছি। কিন্তু খুব অসুবিধা হবে কি, যদি টাকনা অব্দি ফেডেড ডেনিম জিন্স, হাত গোটানো কালো পাঞ্জাবী, হাতে ফাস্ট্র‍্যাক এর ঘড়ি পায়ে স্নিকার পরা নূরানী চেহারার কোনো কলেজ পড়ুয়াকে মসজিদ মুখী হতে দেখাটা দেখতে অভ্যাস করি? কিম্বা জুম্মা ফেরত সৌম্য দর্শন মেহেন্দি রাঙা দাড়ি, সাদা টুপি পাঞ্জাবি পাজামা পরা সিরাজ হাজি, সালাম দিয়ে স্পষ্ট বাংলায় যদি জানতে চান, "আপনাদের সব কুশল তো?" কিম্বা ধরুন মুখুজ্জেদের বাড়ির মেয়ের পুজোর ড্রেসের মতই একটা আসমানী রঙের কুর্তা আর লেগিন্স পরা অন্য কোনো এক লাইলা যদি মাথায় কাপড় দিয়ে মোহন মলে বাজার করে? বিশ্বাস করুন সমস্যা হবেনা। এখন মুখুজ্জেরাও এই কাস্টমস বুঝছে, দেখছে, দেখতে অভ্যস্ত হচ্ছে। ঠিক যেভাবে গোঁড়ামী আর ভ্রুকুটিতে ভয় না পাওয়া কোনো লাইলা সংস্কৃতে এম এ পড়ে ফেলে, শৈশবে স্কুলের সরস্বতী পূজোয় প্রসাদের ফল কাটে। সে প্রসাদ মুখুজ্জে, দাস, বাড়ুজ্জে, মন্ডল, সাহা, হালদার, প্রামাণিক সকলেই ভক্তিভরে খাইও। পুজোর চারদিন কি কি হয় লাইলারা ৭০ শতাংশের বেশি জানে, কিন্তু ইদ-উল-আযহা কিম্বা ইদ-উল-ফিতর কি ও কেন, ওই দিনে কি কি হয় তা সম্পর্কে খুব কম মুখুজ্জে বাড়ুজ্জে জানেন। তাই ভুল করে কেউ বলে ফেলে "কিরে ইফতার পার্টি তে যাবিনা?" বস ওটা পার্টি নয়, মেহফিল, মজলিশ। ইদের দাওয়াৎ হয়, ইদের পার্টি হয়না। বিজয়া সম্মিলনীর মত ইদ মিলনী বা সম্মিলনী হয়।

    এই না জানাজানির ফল, বড় বড় হোর্ডিংয়ে রাজনৈতিক দলের "ইফতার পার্টী'র বিজ্ঞাপনে দেখা যায়। মুসলিম প্রধান এলাকার রাজনৈতিক সমাবেশে 'আমি তোমাদেরই লোক' ভাব দেখিয়ে উদারতা ও সম্প্রীতি বেচে ভোট কিনতে ভুল উচ্চারণে "লা-ইলাহা-ইল্লালাহ-মুহাম্মুদুর-রাসুলুল্লাহ" দরুদ পড়ার পরেই আকাশ থেকে পড়ে 'ইনশাল্লাহ", মঞ্চের নীচের পা ফাটা মুসলমান তাজ্জব দৃষ্টিতে তা দেখে, মনে ঘৃণা, আর মুখে হতভম্বতা নিয়ে বাড়ি ফেরে এই প্রত্যয় নিয়েই যে তিনি 'আমাদের লোক নন"। কথায় কথায় আপনার দায় নেই "খোদা তালা' " "রাব্বুল আমীন" বলার। আপনি আপনার সহজাত ভাষায় বলুন, আপনার স্বাভাবিক কায়দা তারিকাতেই বলুন, মুসলমান অভ্যস্ত তাতে। আর নইলে রপ্ত করে দক্ষতা অর্জন করার পর বলুন।

    যেমন এই জেলার বহরমপুরে গার্লস কলেজে, কলেজের অধ্যক্ষ প্রীতি গুপ্তা সরস্বতী পুজোয় ব্রাহ্মণ ভোজন করাতেন জেলার সম্প্রীতির এক স্তম্ভ রেজাউল করীমকে। রেজাউল সাহেব তার সন্ত জীবন যাপন ও বিদ্যায় প্রকৃত স্নাতক হবার দরুন দূর্লভ এই স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন। একালে বহরমপুরের এক শিক্ষিকার বাড়ির প্রথমবারের দূর্গাপূজোয় এক মুসলিম 'খাতুন' কে কুমারী জ্ঞানে পুজো করা হয়েছে। মুসলমান জন জীবন নিয়ে গৌরকিশোর ঘোষের কালজয়ী সাহিত্য, গত প্রজন্মের মিলন দত্তদের গবেষণাধর্মী লেখা টা তাদের স্বকীয়তা।অন্তত বিলুপ্ত শেফালী চকলেটে এলাচের বীজের মত সম্প্রীতির মোড়ক লাগা উপরচালাকি নয়। যে উপরচালাকি রিজয়ানুরের মৃত্যুতে 'ইনসাফ' না চাওয়া একদল মানুষ হঠাৎ আনিস খানের হত্যায় 'ইনাসাফ' চেয়ে বসে।

    এখানেও ইনসাফ শব্দটা নির্দিষ্ট একটি জনগোষ্ঠীর মগজ ধোলাইয়ে ব্যাবহার হল। ঠিক যেভাবে প্রতিমা নিরঞ্জনে জলপাইগুড়ির মালবাজারে মাল নদীতে হড়পা বানে ভেসে যাওয়া মানবিক মহম্মদ মানিক প্রাণ বাজি রেখে খরস্রোতা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মানুষ হিসেবেই ১০ জনের প্রাণ বাঁচিয়েছেন, মহম্মদ মানিক মুসলমান হবার আগে মানুষ, বালিরঘাট বাস দূর্ঘটনায় জলে নেমে চারজনের প্রাণ বাঁচানো সুকুমার হিন্দু হবার আগে মানুষ। অথচ থুথু দিয়ে আঠা সাটানো সম্প্রীতির পোস্টারে মানিকের মুসলমানত্বকে প্রচ্ছন্ন ভাবে সামনে আনা হয়েছে, কারন পুজোর বিসর্জনের মত এমন সম্প্রীতির নির্ঘন্টে একপিস ত্রাতা মুসলমান পাওয়া দুস্কর। ফারাক টা হল রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য এক, তার দোঁসর গণমাধ্যম, ভূয়ো আদর্শে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক শক্তি অসুর পক্ষে, আর লাখো বেবাক বোকা জনতা হতভম্ব হয়ে ওই হড়পা বানের কিনারে দাঁড়িয়ে।

    আমরা হিজড়ে, রাজদরবারে তালি দিতে পারি খুব। অথবা খুব বিপ্লব চাগাড় দিলে, বিবেক কন কন করলে থুথু দিয়ে সম্প্রীতির পোস্টার সাঁটার মত অক্ষমের হস্তমৈথুন হতে পারে। কিন্তু আদতে দরকার পড়শি জানা, পড়শির খাদ্যাভাস, সংস্কৃতি, ধর্মাচারণের, সংস্কার সহ সবকিছুর ধারণা রাখ। একই সাথে আর এক পড়শিরও পাশেরজন কে জানানোর দরকার, কারা আমরা, কেন আমরা, কি আমরা তা।তাহলে আর 'বেটি চলে গেল, ফাঁকা লাগছে' এই শুন্যতা উপলব্ধির জন্য মসজিদের ইমাম সাহেবকে দশমীর দুদিন পরে ভাঙাচোরা মন্ডপের সামনে গিয়ে হা হুতোশ করা দৃশ্য নির্মানের দরকার হবেনা। আশ্বিনের শুক্লপক্ষের প্রতিপদে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণের সমধিক প্রয়াত পূর্বপুরুষদের, মা ফুফুর কবর জিয়ারৎের অনুভব হবে ক্ষয়া চাঁদ দেখেই। বিসর্জনের দিন ভৈরবের পাড়ের অগুনতি মানুষের ভীড়,মেলা, জিলিপি, পাপড়, নৌকো বাইচের লোকউৎসবের শুন্যতা রুহ কাঁপিয়ে দেবে। সম্পন্ন মুসলমান ব্যাবসায়ীর মেয়ের সাথে কোনো মুখুজ্জে চাটুজ্জে বা দাস সাহার ছেলের বিয়ের 'খানা' হবে আলোর রোশনাইয়ে।

    দশমীর পরে তো দিপাবলীও আসে। তাই অনর্থক চিড়কে ভাঙনে ঠেলতে এত ঠুনকো বানোয়াট কি দরকার। এতে সব্জীওয়ালা হাসিবুলা আর নিখিল দেবনাথ একে অপরকে আঁড়চোখে মাপছে যে, দুজনেই " সম্প্রীতি বজায় রাখার" অদ্ভুত অপ্রয়োজনীয় কেঠো অভ্যাস করছে। অথচ এসব স্বাভাবিক নিয়মেই আসা উচিৎ। তার প্রয়াস জারি রাখি পড়শিকে জেনে ও জানান দিয়েই বরং। নইলে যে লতা মঙ্গেশকরের মরদেহে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে দোয়া পড়ে ফু দেওয়াকে 'থুথু' ছেটানোর তারকা খচিত বিতর্ক, অথবা দূর্গাপুজোর উদ্বোধনে মুসলিম সাংসদের জাত খোয়ানোর মত বড় ভুল ছড়াবে, বিষ ছড়াবে আরও কতকাল।